নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, ‘আমল হচ্ছে মোট ছয় ধরণের আর মানুষ হচ্ছে চার শ্রেণির। ছয় ধরণের আমল হচ্ছে: প্রথমত: যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছু শিরক না করে মারা যাবে, তার জন্য জান্নাত আবশ্যক হয়ে যাবে। দ্বিতীয়ত: যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শিরক করে মারা যাবে, তার জন্য চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামের আগুন আবশ্যক হয়ে যাবে। আর এ দুটি হলো আবশ্যককারী। তৃতীয়ত: নিয়ত সংক্রান্ত ভালোকাজ, যে ব্যক্তি কোন ভালোকাজের নিয়ত করে, আর সে তার নিয়তের ক্ষেত্রে সত্যবাদীও হয়, এমনকি তার অন্তরও এটি অনুভব করে এবং আল্লাহ তা‘আলাও তার এ নিয়ত সম্পর্কে জানেন। কিন্ত তারপরে তার সামনে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় যে, সে আর উক্ত কাজটি সম্পাদন করতে পারে না, তাহলে এমতাবস্থায় তার জন্য পূর্ণ একটি ভালোকাজ লিখে দেয়া হয়। চতুর্থত: কৃত মন্দকাজ, যে ব্যক্তি কোন একটি মন্দকাজ করে, তার জন্য একটি মন্দকাজই লেখা হয়। আর এরা হচ্ছে: সমান, সমান কোন প্রকার বৃদ্ধি করা ছাড়া। পঞ্চমত: একটি ভালোকাজ, যা তার দশগুণ হয়ে থাকে। এটি হচ্ছে যে ব্যক্তি নিয়ত করে এবং সে অনুযায়ী আমলটি সম্পাদন করে; এতে তার দশটি ভালোকাজ লিখে দেয়া হয়। ষষ্ঠত: সাতশত গুণ বর্ধিত ভালোকাজ। এটি হচ্ছে: যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কোন কিছু দান করে, তার জন্য এ ভালোকাজটি সাতশত গুণ বৃদ্ধি করে লেখা হয়। এটি নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা‘আলার বান্দার উপরে তাঁর অনুগ্রহ ও করুণা। আর চার শ্রেণির মানুষ হচ্ছে: প্রথম: যাকে দুনিয়াতে রিযিকের প্রাচুর্যতা ও নি‘আমাত দান করা হয়েছে, সে এখানে যা চায় সব কিছুই পায়, তবে আখিরাতে সে সংকটে পতিত হবে। আর তার অবস্থান হবে জাহান্নামে, সে হচ্ছে মূলত: ধনী কাফির। দ্বিতীয়: যার উপরে দুনিয়ার রিযিকের সংকীর্ণতা রয়েছে, কিন্তু আখিরাতে সে প্রাচুর্যতা পাবে আর তার আবাস হবে জান্নাত, সে হচ্ছে: দরিদ্র মুমিন। তৃতীয়: যার উপরে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়টিই সংকীর্ণ, সে হচ্ছে: দরিদ্র কাফির। চতুর্থ: যে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় স্থানেই প্রাচুর্যতা পাবে, সে হচ্ছে: ধনী মুমিন।