আনাস রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দু’আ অধিক পাঠ করতেনঃ«يَا مُقَلِّبَ القُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ» “হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দীনের উপর প্রতিষ্ঠিত (দৃঢ়) রাখো। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আমরা ঈমান এনেছি আপনার উপর এবং আপনি যা নিয়ে এসেছেন তার উপর। আপনি আমাদের ব্যাপারে কি কোনরকম আশংকা করেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, কেননা, আল্লাহ তা’আলার আঙ্গুলসমূহের মধ্যকার দুটি আঙ্গুলের মাঝে সমস্ত অন্তরই অবস্থিত। তিনি যেভাবে ইচ্ছা তা পরিবর্তন করেন”। সহীহ - এটি তিরিমিযী ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।
explain-icon

ব্যাখ্যা

মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকাংশ দোয়াই ছিল আল্লাহর কাছে দ্বীন ও আনুগত্যের প্রতি অবিচল থাকা এবং পথভ্রষ্টতা ও গোমরাহী থেকে দূরে থাকার প্রার্থনার ওপর। আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দোয়াটি প্রায়শই করতেন, তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, হৃদয়গুলো হল আল্লাহর দুই আঙ্গুলের মাঝখানে এবং তিনি সেগুলিকে তার ইচ্ছা মত ঘুরিয়ে দেন। কালব (অন্তর) হল ঈমান ও কুফরের স্থান। আর ঘনঘন পরিবর্তন হওয়ার কারণে কালবকে (হৃদয়কে) কালব (হৃদয়) বলা হয়। এটা পাত্রের চেয়েও বেশি উৎরানশীল। যাকে আল্লাহ ইচ্ছা করেন তার অন্তরকে হেদায়েতের উপর প্রতিষ্ঠিত করেন এবং দ্বীনের উপর অটল রাখেন এবং যাকে আল্লাহ ইচ্ছা করেন তার অন্তরকে হেদায়েত থেকে বিচ্যুতি ও গোমরাহীর দিকে ফিরিয়ে দেন।

explain-icon

হাদীসের শিক্ষা

  • নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাঁর রবের নিকট বিনয়াবনতা এবং তাঁর নিকট তাঁর আঁকুতি এবং উম্মাতকে তা প্রার্থনা করতে নির্দেশ করা।
  • দ্বীনের ওপর সুদৃঢ় থাকা ও অবিচলতার গুরুত্ব। আর শেষ পরিণামই এক্ষেত্রে ধর্তব্য ও চুড়ান্ত।
  • বান্দা চোখের পলক ফেলা পরিমাণও ইসলামের ওপর অটল থাকার জন্য আল্লাহ থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারে না।
  • হাদীসটিতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আদর্শ অনুসরণ করে এই দোয়াটি প্রচুর পাঠ করার জন্য উত্সাহিত করা হয়েছে।
  • ইসলামে অটল থাকাই সবচেয়ে বড় নিয়ামত যার জন্য বান্দার চেষ্টা করা উচিত এবং সে জন্য তার রবের শোকর আদায় করা উচিত।