এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, আমলসমূহ নিয়তের উপর নির্ভরশীল। ইবাদত ও লেনদেনসহ সকল কাজের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য। সুতরাং যে ব্যক্তি তার আমলের দ্বারা শুধু পার্থিব উপকারিতা লাভের উদ্দেশ্য করবে সে শুধু উক্ত উপকারিতাই লাভ করবে, কোন সাওয়াব প্রাপ্ত হবে না। অপরদিকে যদি কেউ তার আমলের দ্বারা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য উদ্দেশ্য করলে, সে উক্ত আমলের দ্বারা সাওয়াব ও প্রতিদান লাভ করবে; যদিও কাজটি সাধারণ কোন কাজ হয়, যেমন খাওয়া বা পান করা। অতপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাজের ক্ষেত্রে নিয়তের প্রভাব বুঝাতে একটি উদাহরণ পেশ করেছেন; যদিও বাহ্যিক দৃষ্টিতে কাজ দুটি সমান। তিনি বর্ণনা করেন যে, যে ব্যক্তি স্বীয় দেশ ত্যাগ করে হিজরত করবে এবং সে উক্ত হিজরতের দ্বারা তার রবের সন্তুষ্টি তালাশ করবে, তাহলে তার হিজরত শরী‘য়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য হিজরত বলে বিবেচিত হবে এবং তার নিয়াতের বিশুদ্ধতার কারণে সে সাওয়াবের অধিকারী হবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পার্থিব সুযোগ-সবিধার জন্য যেমন, ধন-সম্পদ, সুনাম-সুখ্যাতি, ব্যবসা-বাণিজ্য বা স্ত্রী ইত্যাদি লাভের উদ্দেশ্যে হিজরত করবে, তবে সে উক্ত হিজরতের দ্বারা শুধু পার্থিব উদ্দেশ্যই হাসিল করবে, এতে তার কোন সাওয়াব এবং পুরস্কার প্রাপ্তি হবে না।