রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন, ক্ষমা প্রার্থনার বিভিন্ন শব্দমালা(দোয়া) রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বান্দা এ বাক্যগুলো বলা: “হে আল্লাহ, আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আমি আপনার বান্দা, আমি যথাসাধ্য আপনার অঙ্গীকার ও ওয়াদার ওপর আছি, আমি যা করছি তার অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট প্রার্থনা করছি। আমি আমার ওপর আপনার নি‘আমত স্বীকার করছি এবং আমি আপনার সামনে আমার পাপ স্বীকার করছি, অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। কারণ, আপনি ব্যতীত কেউ পাপ ক্ষমা করবে না।” অতএব, বান্দা প্রথমে আল্লাহর তাওহীদের স্বীকৃতি দিবে এবং তিনি তার স্রষ্টা এবং তার মাবূদ, যার কোন শরীক নেই। সে মহান আল্লাহর সাথে ঈমান ও আনুগত্যের যে অঙ্গীকার করেছেন, তার উপরে সে সাধ্যমতো দৃঢ়পদ আছে। কারণ বান্দা যতই ইবাদত করুক না কেন, সে আল্লাহর সমস্ত আদেশ পালন করতে পারে না বা তার উপর প্রদত্ত অনুগ্রহের জন্য যথাযথ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারে না। অতএব, বান্দা আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং তাঁকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে। আর বান্দার কৃত পাপ ও অকল্যাণকর কাজ থেকে তিনিই আশ্রয় দাতা। এবং সে স্বেচ্ছায় তার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্বীকার করে এবং নিজের গুনাহ ও অবাধ্যতার কথা স্বীকার করে। এরপর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, তিনি যেন তার গুনাহ ক্ষমা করেন, তার পাপগুলো ঢেকে দেন এবং তার ক্ষমা, অনুগ্রহ ও রহমত দ্বারা তাকে পাপের পরিণাম থেকে রক্ষা করেন। কারণ, তিনিই একমাত্র গুনাহ ক্ষমা করতে পারেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, এটি সকাল ও সন্ধ্যার যিকিরগুলোর মধ্যে একটি অন্যতম যিকির। যে ব্যক্তি সকালে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দিনের প্রথম ভাগে এ যিকিরটি বিশ্বাসের সাথে এবং অন্তরে এর অর্থের প্রতি খেয়াল রেখে পাঠ করবে এবং এরপর সেদিন মারা যায়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি রাতে সূর্যাস্ত থেকে ফজরের আগ পর্যন্ত এ যিকিরটি পাঠ করবে এবং সকাল হওয়ার আগে মারা যাবে, সেও জান্নাতে প্রবেশ করবে।