কিয়ামতের দিন জাহান্নামের মাঝখানে আল্লাহ তা‘আলা পুলসিরাত স্থাপন করবেন। আর পুল সিরাতের উপর থাকবে শক্ত কাঁটা। তারপর লোকদের তার উপর দিয়ে অতিক্রম করতে বলা হবে। তাদের মধ্যে কতক মুক্তি পাবে এবং নিরাপদে পার হবে। তাদেরকে জাহান্নাম পাবে না। আর কতক আঘাত পাবে অতঃপর নিরাপদে পার পাবে এবং মুক্তি পাবে। আর কতক জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। আল্লাহ যখন তার বান্দাদের হিসাব সম্পন্ন করবেন এবং যারা জান্নাতী তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং যারা জাহান্নামী তাদের জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। তখন জান্নাতী মু’মিনগণ কতক মানুষ দুনিয়াতে যারা তাদের সাথে সালাত, যাকাত, সাওম, হজ পালন করত এবং জিহাদ করত, তাদের দেখতে পাবে না। তখন তারা আল্লাহকে বলবেন, হে আমাদের রব! ঐ সব লোকদের জান্নাতে আমাদের সাথে দেখছি না, অথচ তারা দুনিয়াতে আমাদের সাথে সালাত, যাকাত, হজ ও যুদ্ধ করত। তখন আল্লাহ তাদের বলবেন, তোমরা জাহান্নামে যাও তাদের থেকে কাউকে যদি দেখতে পাও, তবে তাকে বের করে নিয়ে আসো। তখন তারা তাদের পাবেন, তাদের আমল অনুযায়ী আগুন তাদেরকে গ্রাস করছে। কাউকে আগুন তার পা পর্যন্ত, কাউকে পায়ের অর্ধ নলা পর্যন্ত, কাউকে হাঁটু পর্যন্ত, কাউকে তার মাঝামাঝি পর্যন্ত, কাউকে তার দুই স্তন পর্যন্ত, আবার কাউকে তার গলা পর্যন্ত গ্রাস করেছে তবে আগুন তাদের চেহারা পর্যন্ত পৌঁছে নি। তারা তাদের ব্যাপারে সুপারিশ করবেন এবং তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করবেন। তারপর হায়াতের পানিতে নিক্ষেপ করবে। আর তা হলো এমন পানি যে তার মধ্যে ডুবে সে জীবিত হয়ে যায়। তখন তারা পানি প্রবাহিত হওয়ার ড্রেনের মধ্যে যেভাবে উদ্ভিদ জন্মায় সেভাবে জন্ম লাভ করবে। অতঃপর যারা ইখলাসের সাথে এ কথা সাক্ষ্য দিত যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই তাদের সবার ব্যাপারে সুপারিশ করবেন এবং তাদেরকে জাহান্নাম থেকে তারা বের করে আনবেন। তারপর স্বীয় রহমত দ্বারা আল্লাহ জাহান্নামীদের প্রতি করুনা করবেন। তখন যাদের অন্তরে দানা পরিমাণ ঈমান আছে জাহান্নাম থেকে বের করা ছাড়া ছাড়বেন না।