রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনাবাসীর মীকাত যুল-হুলাইফা হজ করার উদ্দেশ্যে বের হলেন, যে হজে তিনি বাইতুল্লাহকে ও হজের মানাসেককে বিদায় জানালেন, লোকদেরকে বিদায় জানালেন আর তাদেরকে তার রিসালাত পৌছালেন এবং তার ওপর সাক্ষ্য গ্রহণ করলেন, তাতে তিনি হজ ও উমরার ইহরাম বাঁধলেন। ফলে তিনি ছিলেন হজ্জে কিরানকারী। আর কিরানকারী মূলত তামাত্তুকারী। লোকেরা রাসূলুল্লাহর সাথে তামাত্তু করলেন। তাদের অনেকেই দুই নুসুকের (হজ ও উমরার) ইহরাম বাঁধলেন। আর কেউ কেউ উমরার ইহরাম বেঁধেছেন তা শেষ করে হজ করার নিয়তে। আবার কতক লোক শুধু হজের ইহরাম বেঁধেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের তিন প্রকার হজের যে কোনটি পালনে স্বাধীনতা দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার কতক সাহাবী যুল হুলাইফাহ থেকে হাদী-কুরবারী জন্তু সাথে নিয়ে গেছেন। আর কিছু লোক কুরবারীর জন্তু সাথে নিয়ে যাননি। যখন তারা মক্কার নিকটে পৌঁছলেন ইফরাত ও কিরানকারীদের থেকে যারা কুরবানীর পশু নিয়ে যাননি তাদেরকে হজ বাতিল করে উমরা সম্পন্ন করতে উৎসাহ প্রদান করেন। তারপর যখন তারা তাওয়াফ ও সা‘ঈ করল তাদেরকে তিনি জোর দিলেন যেন তারা চুল কেটে তাদের উমরা থেকে হালাল হয় অতঃপর হজের ইহরাম বাঁধে ও কুরবানীর পশু প্রেরণ করে। কারণ, তারা একই সফরে দুটি মানসেক পালন করতে এসেছে। তবে যারা কুরবানী করতে পারবে না তারা দশদিন সাওম পাল করবে। হাজ্জের সময় তিনদিন, এই সিয়ামের সময় উমরার ইহরাম করার পর থেকে শুরু হয় এবং বাড়িতে ফিরে গিয়ে সাতদিন সওম পালন করবে। নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মাক্কায় পৌঁছলেন, প্রথমে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করলেন এবং সাত চক্কর তাওয়াফ করলেন। তিন চক্কর রামল করলেন। কারণ, এটি ছিল আগমনের পরের তাওয়াফ। আর চার চক্কর স্বাভাবিকভাবে হেঁটে তাওয়াফ করলেন। বাইতুল্লাহর তাওয়াফ সম্পন্ন করে তিনি মাকামে ইব্রাহীমের নিকট দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি সাফায় আসলেন এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাত চক্কর সা‘ঈ করলেন। দুটি আলামতের মাঝে তিনি দৌড়ালেন। আর বাকী অংশ তিনি স্বাভাবিক হাঁটলেন। তারপর হাজ্জ সমাধান করা, নহরের দিন কুরবানী করা আগ পর্যন্ত তিনি তার ইহরাম থেকে হালাল হননি। তারপর যখন তিনি তার হজ শেষ করে, জামরায় পাথর মারলেন, কুরবারীর পশু জবেহ করলেন, নহরের দিন মাথা মুন্ডালেন, এটি হল প্রথম হালাল, তখন সাজ সকালে বাইতুল্লাহর দিকে রওয়ান দিলেন এবং তাওয়াফ করলেন। অতঃপর তাঁর উপর যা হারাম ছিল সে সব কিছু হতে তিনি হালাল হয়ে গেলেন। এমনকি নারীগণও হালাল হয়ে গেল। সাহাবীগণের মধ্যে যাঁরা হাদী সাথে নিয়ে এসেছিলেন তাঁরাও সেরূপ করলেন, যেরূপ আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছিলেন।