হাদীসটিতে অসুস্থ থাকার কারণে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বসে সালাত আদায় করা এবং মুক্তাদির ইমামের আনুগত্য ও তাকে অনুসরণ করার পদ্ধতির বর্ণনা রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইমাম নিযুক্ত করার হিকমত সম্পর্কে মুক্তাদিদের দিক নির্দেশনা দেন। আর তা হলো ইমামের আনুগত্য ও অনুসরণ করা হয়। সালাতের কোন আমলে তার সাথে ভিন্নতা অবলম্বন করবে না। বরং তার যাবতীয় নড়চড় শৃঙ্খলার সাথে অনুসরণ করবে। সুতরাং যখন তিনি ইহরামের তাকবীর বলেন তোমরাও তাকবীর বলো। যখন রুকু‘ করে তোমরাও তারপর রুকু‘ করো। আর যখন سمع الله لمن حمده বলে তোমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দেন যে তার প্রশংসা করে, তখন তোমরা ربنا لك الحمد বলে আল্লাহর প্রশংসা কর। আর যখন সে সেজদা করে তোমরা তার অনুসরণ করো এবং সেজদা করো। আর যখন সে অপারগতা বসত বসে সালাত আদায় করবে তখন তোমরাও তার অনুকরণে সবাই বসে সালাত আদায় কর। যদিও তোমরা দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে সক্ষম। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা উল্লেখ করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হলে বসে সালাত আদায় করেন। সাহাবীগণ ধারণা করলেন যেহেতু তারা সক্ষম তাই তাদের দাঁড়াতে হবে। তাই তারা তার পিছনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে লাগলেন। তখন তিনি তাদের ইশারা করলেন যে, তোমরা বসে যাও। তারপর সালাত শেষ করে তিনি তাদের জানিয়ে দিলেন যে, ইমামের সাথে ভিন্নতা অবলম্বন করা যায় না। বরং পরিপূর্ণ অনুকরণ ও ইক্তিদা বাস্তবায়নের লক্ষে তার সাথে একাত্বতা পোষণ করতে হবে। ফলে দাঁড়াতে অপারগ বসা ইমামের পিছনের দাঁড়তে সক্ষম মুক্তাদিগণ বসে সালাত আদায় করবে। এটি যখন ইমাম তাদের নিয়ে বসে সালাত আরম্ভ করে তখন তোমরা তার পিছনে বসে সালাত আদায় করবে। আর যদি নির্ধারিত ইমাম সালাত দাঁড়িয়ে আরম্ভ করে। তারপর সালাতের মাঝখানে অসুস্থ হয়ে বসে পড়ে তখন তোমরা অবশ্যই তার পিছনে দাড়িয়ে সালাত সম্পন্ন করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবু বকর ও মানুষদের নিয়ে সালাত আদায় করার সেই হাদীসের উপর আমল করে, যখন তিনি মৃত্যু রোগে আক্রান্ত হয়ে ছিলেন।